শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
জরুরী বিজ্ঞপ্তি
দৈনিক বর্তমান দেশ সংবাদ এ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ৭৮/৪/ সি তৃতীয় তলা, কাজলা ব্রীজ-উত্তর যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। ফোন ০২-২২৩৩৪২১৪১,  মুঠোফোন :  ০১৮১৭-৫৩০৯৫২।

সরকারি চাকুরেদের আয়-ব্যয়ের তারতম্য দেখার সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী ব্যবস্থা নেই

  • আপডেট এর সময় : রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

সরকারি চাকুরেদের আয়-ব্যয়ের তারতম্য দেখার সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদবিবরণী দাখিল মূলত এক ধরণের লোক দেখানো কাজ। কারণ ওসব সম্পদ বিবরণী খতিয়ে না দেখে বরং বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখা হয়। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে সরকারি কর্মচারীদের বিধি অনুযায়ী পাঁচ বছর পর পর বাধ্যতামূলকভাবে সম্পদের হিসাব দিতে হতো। বিগত ১৫ বছরে তাদের কারো কারো সম্পদ অনেক গুণ বেড়েছে। অনেকের বিদেশেও সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা থাকায় সরকারি চাকুরেদের সম্পদের বিষয়ে খুব বেশি নজর রাখা যায় না। শুধু গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেলেই দাখিল করা হিসাবের সত্যতা নিরূপণ করা হয়। আর সেক্ষেত্রে শাস্তির বিষয়টি বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ দেখে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদবিবরণী নেয়া একটি রুটিন কাজ। তবে ওসব বিবরণীর ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখে ব্যবস্থা নেয়া হলে প্রশাসনে তা কার্যকরী ভূমিকা পালন করতো। কিন্তু ওসব বিবরণী বস্তাবন্দি হয়ে পড়ে থাকে। বলা যেতে পারে এটি একটি লোক দেখানো কাজ। যে কারণে সম্পদবিবরণীগুলো বিশ্লেষণ করা হয় না। এমনকি সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণ করার সক্ষমতাও গড়ে তোলা হয়নি। তারপরও সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব সরকারিভাবে নেয়া হয়। মূলত সতর্ক করাই বিবরণী দাখিলের উদ্দেশ্য। সম্পদের হিসাব যাচাই করার কার্যকর উপায় খোঁজায় কারোর নজর নেই।

সূত্র জানায়, দেশব্যাপী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদবিবরণী সংগ্রহ করার প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। তারপরও অসৎ পথে, জনসেবা ব্যহত করে কারা বিত্তশালী হচ্ছে তা নজরদারি করাই বিবরণী গ্রহণ করার উদ্দেশ্য। কিন্তু পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতায় এ বিষয়ে খুব বেশি নজর রাখা যায় না। শুধু গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেলেই দাখিল করা হিসাবের সত্যতা নিরূপণ করা হয়। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্যাডার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীর সংখ্যা কমবেশি ৬৮ হাজার। শুধু ক্যাডার কর্মকর্তার সংখ্যাই ৬,৫৩৯। প্রায় সবাই মন্ত্রণালয়ে তাদের সম্পদের হিসাববিবরণী জমা দিয়েছেন। বিভাগীয় ও ডিসি অফিসের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও দপ্তরে প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের হিসাবও জমা পড়েছে।

কিন্তু সম্পদের বিবরণীগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৫ শাখার একটি রুমে ফাইলবন্দী থাকে। সেখানে হাতে হাতে হিসাব করতে হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে গত ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পদের হিসাব জমা দিতে হয়েছিলো। পরবর্তীতে তার সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। তাছাড়া এবারই প্রথম যাদের সম্পদ নেই তাদেরও জনস্বার্থে হিসাব জমা দেয়ার কথা বলা হয়।

সূত্র আরো জানায়, সম্পদবিবরণী যাচাইয়ে ডিজিটাল ডাটাবেজ থাকা জরুরি। তা থাকলে সরকার পুরো বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে হালনাগাদ করতে পারতো। কারো বিষয়ে অনুসন্ধানের প্রয়োজন হলে তার বিবরণী খুঁজে পেতে লাখ লাখ ফাইল ঘাঁটতে হতো না। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জোরেশোরে দুর্নীতিগ্রস্তদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তার মধ্যে সম্পদবিবরণীও রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদ সরকারের নজরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওই লক্ষ্যে এবার মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ডিসির কার্যালয়ে সম্পদবিবরণী জমা নেয়া হয়।

এদিকে সম্পদবিবরণীতে অসামঞ্জস্য পাওয়া প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মোখলেস উর রহমান জানিয়েছেন, সম্পদের বিবরণী জমা না দিলে দণ্ডের কথা সংশ্লিষ্ট আইনে বলা আছে। যত বড়ই হোক, চোরকে চোর বলতে হবে।

অন্যদিকে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণী সরকারের কতটা কাজে আসে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ জানান, সরকার শৃঙ্খলার স্বার্থে এ বিবরণী জমা নেয়। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিয়মানুযায়ী তাদের সম্পদের বিবরণ দেন। কিন্তু তাতে আয়-ব্যয়ে তারতম্য দেখা গেলে সেটি দেখার তেমন সুনির্দিষ্ট এবং কার্যকরী ব্যবস্থা নেই; এটি কষ্টসাধ্যও বটে। তবে বেতনস্কেল অনুযায়ী আয়-ব্যয়ে ভারসাম্য থাকুক সরকার তা চায়।

সংবাদটি আপনার সোস্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ