ভারতে সদ্য পাস হওয়া ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন, ২০২৫ নিয়ে বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে সুপ্রিম কোর্ট সাত দিনের জন্য আইনের কয়েকটি ধারায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াকফ বোর্ড ও কাউন্সিলে নতুন কোনো নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
এই আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, সঞ্জয় কুমার ও কেভি বিশ্বনাথনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) মামলার শুনানিতে আদালত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার আশ্বাস গ্রহণ করে জানান, সরকার আপাতত ওয়াকফ সংশোধনী আইন অনুযায়ী কোনো নিয়োগ দেবে না এবং বিদ্যমান নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তির চরিত্রও পরিবর্তন করবে না।
উল্লেখ্য, ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন, ২০২৫ চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতে ভারতের দুই কক্ষ—লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হয়। লোকসভায় বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ২৮৮টি এবং বিপক্ষে ২৩২টি। রাজ্যসভায় পক্ষে ভোট পড়ে ১২৮টি ও বিপক্ষে ৯৫টি। ৫ এপ্রিল ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মতির মাধ্যমে বিলটি আইনে পরিণত হয়।
তবে আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেক মুসলিম সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতা এটিকে ধর্মীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে একধরনের হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেন। ওয়াকফ আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ে ৭২টি আবেদন, যার মধ্যে রয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড, জমিয়াত উলামায়ে হিন্দ, ডিএমকে ও কংগ্রেসের কয়েকজন আইনপ্রণেতার নাম।
বিচারপতিদের বেঞ্চ জানায়, এত বিপুল সংখ্যক আবেদন একসঙ্গে শুনানির বাস্তবতা নেই। তাই আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাত্র পাঁচটি আবেদন বাছাই করে প্রাথমিক শুনানি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রকে এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর পিটিশনাররা পাঁচ দিনের মধ্যে নিজের অবস্থান জানিয়ে জবাব দেবে।
আদালত আরও বলেছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবহারকারীরা যেন কোনো হেনস্তার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে কোনো ওয়াকফ সম্পত্তিকে ‘ডিনোটিফাই’ করা যাবে না বা তার ব্যবহার ও চরিত্র বদলানো যাবে না।
এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৫ মে, দুপুর ২টা। ওই দিন আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দিতে পারে বলে আভাস দিয়েছে।